২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) প্রকল্পটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। এই প্রকল্পটি সম্পর্কে প্রধান তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো।

১. অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কী?
এটি মূলত ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে বিজেপি এই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে। যদি তারা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে, তবে এই প্রকল্পটি চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
২. প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও আর্থিক সুবিধা
- ভাতা: এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- তুলনা: বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১,০০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি/উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১,২০০ টাকা পান। বিজেপি দাবি করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে সব শ্রেণির মহিলাদের জন্যই এই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করবে।
৩. বর্তমান স্থিতি
- এখনও কার্যকর নয়: এটি একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা ম্যানিফেস্টোর অংশ। অর্থাৎ, এই প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনো অফিসিয়াল বা সরকারি প্রকল্প হিসেবে এখনো চালু হয়নি।
- ফর্ম ফিলাপ: নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জায়গায় এই প্রকল্পের নামে ফর্ম বিলি বা ফিলাপ করানোর খবর সামনে এসেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তবে মনে রাখা জরুরি যে, সরকারিভাবে কোনো ফর্ম ফিলাপ এখনো শুরু হয়নি।
৪. প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
যদি এই প্রকল্প ভবিষ্যতে চালু হয়, তবে সাধারণত যে বিষয়গুলো প্রয়োজন হতে পারে:
- আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- শুধুমাত্র মহিলারাই এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক হতে পারে।
৫. সতর্কতা
বর্তমানে ইন্টারনেটে বা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর অনলাইন আবেদন বা ফর্ম ফিলাপের অনেক ভুয়ো লিঙ্ক দেখা যাচ্ছে। যেহেতু এটি কোনো সরকারি প্রকল্প নয়, তাই এই ধরনের কোনো লিঙ্কে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য বা আধার নম্বর দেবেন না। সরকারি কোনো ঘোষণা হলে তা শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইটেই জানানো হবে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার হলো বিজেপির একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প যেখানে মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।